ব্যাংক গুলো ফোকলা হয়ে গেছে- রুহিন হোসেন প্রিন্স

বাম জোটের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

“কারসাজি করে ক্ষমতায় থাকার কারণে জনগণের প্রতি কোন অঙ্গীকার নেই, ব্যাংকের গভর্ণর পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছেন’

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, রাতের ভোটে- কারসাজি করে ক্ষমতায় থাকার কারণে জনগণের প্রতি কোন অঙ্গীকার না থাকায় সরকার ব্যাংক ডাকাত- টাকা পাচারকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে গরীব কৃষককে সামান্য টাকার জন্য জেলে পুরছে।

ব্যাংক ডাকাতি-ঋন খেলাপি-কর ফাঁকির ঘটনা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেছেন, “এক লাখ ডলারের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি মাত্র ২০ হাজার ডলারে আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে। বাকি অর্থ হুন্ডিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েস (আমদানি মূল্য বাড়িয়ে দেখানো) হয়েছে।” প্রিন্স, এদের তালিকাসহ টাকা পাচারকারী, ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।

তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন, পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা, সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া-রেশনিং ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু- দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ-সারা দেশে কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, সারের দাম কমানোর দাবিতে আজ পুরানা পল্টন মোড়ে বাম গনতান্ত্রিক জোট সমাবেশের আয়োজন করে।

বাম জোটের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক সিপিবি নেতা ডা.সাজেদুল হক রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, কমিউনিস্ট লীগের নজরুল ইসলাম, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা ডা. জয়দীপ ডট্টাচার্জ, বিপ্লবী গনতান্ত্রিক পার্টির নেতা শহিদুল ইসলাম সবুজ, সিপিবি নেতা জলি তালুকদার, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা মোদাচ্ছের হোসেন বাবুল প্রমুখ। এসময় সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বিপ্লবী গনতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশারফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই, সংবাদ মাধ্যমকে ভীতির ভেতর কাজ করতে হচ্ছে। সব তথ্য আমরা জানছি না, কিন্তু যতটুকু জানছি- ব্যাংক গুলো ফোকলা হয়ে গেছে। সরকারের কাছের লোকজন প্রভাব খাটিয়ে এক একটি ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা ঋন নিয়ে পাচার করে দিয়েছে। অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে- জননিরাপত্তা নেই, দ্রব্যমূল্য মানুষের জীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করছে। সবক্ষেত্রে ব্যর্থ সরকার কারসাজি করে আবার ক্ষমতায় বসার ছক কষছে। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হলে তাতে মানুষ ভোট দিতে পারবে না। আমরা সেই কারনে নির্বাচন এর সময়ে তদারকি সরকার চাই। সংসদ বহাল থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে না, টাকার খেলা, পেশী শক্তি, কারসাজি, নির্বাচনী প্রচারে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ না হলে ভোটের পরিবেশ থাকবে না। তিনি বলেন, সরকার মানুষের কাছে দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি রাখেনি। পাহাড়ের জনগণের সাথেও প্রতারণা করেছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি। আমরা এই চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি করছি। বক্তারা বলেন, এই সরকার গরীবের পেটে লাথি মারছে। কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছে না, বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে, আবার সামান্য টাকার জন্য তাকে জেলে নেয়া হচ্ছে।

সরকারের লুটপাটের কারনে বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় হলেও তার দায় চাপানো হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপরে। গনশুনানি ছাড়া গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। বক্তারা বলেন, বামপন্থীদের লড়াই ভোটাধিকারের জন্য, ভাতের জন্য, মজুরির জন্য, মর্যাদার জন্য। আমরা লড়াই করে গ্যাস রপ্তানী ঠেকিয়েছি, বন্দর ইজারা দিতে দেইনি, কয়লা বিক্রি করতে দেইনি। আমরা গনতান্ত্রিক শাসনের দাবিতে রাস্তায় আছি, শোষন বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আছি। ভোটের অধিকার- দ্বিদলীয় মেরুর বাইরে বিকল্প গড়ার সংগ্রামে আমরা থাকবো। সমাবেশ শেষে একটি গন মিছিল পল্টন বিজয় নগর, শান্তিনগর মালিবাগ হয়ে মৌচাকে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত মানুষ লাল পতাকা হাতে মিছিলে যোগ দেন।

শেয়ার করুনঃ