1. km.mintu.savar@gmail.com : admin :
  2. editor@biplobiderbarta.com : editor :
শিরোনাম:
দেশে করোনায় মৃত্যু বাড়ল, ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯০১ জন। দেশে আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের চেয়ে আবার এগিয়ে বাংলাদেশ প্রণোদনা ঋণ ৩৬ কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা চায় বিজিএমইএ পোশাক খাতের ১৬ শতাংশ শ্রমিকের কম মজুরি পাওয়ার শঙ্কায় হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মালিকসহ দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী ২১ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে পাবনা- কাশিনাথপুরে করোনা সচেতনতায়  মাস্ক বিতরণ: হাসেম ফুড কারখানায় আরও একটি খুলিসহ কঙ্কাল ও হাড় উদ্ধার গার্মেন্ট শ্রমিকদের সুরক্ষায় ৫০ ইউনিয়নের যৌথ বিবৃতি

শ্রমিকরা এখন কৃতদাসের জীবন যাপন করছে- আনু মুহাম্মদ

বিপ্লবীদের বার্তা
  • প্রকাশ : রবিবার, ২২ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

২০ আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে আমিনুল ইসলাম শামার ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  “শ্রমিক আন্দোলনের নানা বাঁক, সংকট ও শক্তি” শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যবিদ হারুনুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেউতি সাবুর, সমগীতের সভাপতি অমল আকাশ এবং গার্মেন্টস টিইউসির নির্বাহী সভাপতি রুহুল আমিন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের উপদেষ্টা শামীম ইমাম,  শ্রমিক সংহতি আশুলিয়া শাখার সভাপ্রধান বাবুল হোসেন। এছাড়াও আমিনুল ইসলাম শামার স্ত্রী রুবী বেগম, সন্তান রাকি হাসান এবং স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। সভাসমন্বয় করেন সংগঠনের সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার এবং সভা পরিচালনা করবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ‍জুলহাসনাইন বাবু।

 

আলোচনা সভায় আলোচনার পাশাপাশি শামার জীবনী, বিভিন্ন সময়ের আলোকচিত্র এবং পোশাক শ্রমিকদের পক্ষ থেকে সংগীত পেরিবেশন করা হয়।

 

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তাঁর আলোচনায় বলেন, আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই পরিস্থিতি যত জটিল হোক তার মধ্যেও প্রতিবাদ প্রতিরোধ ছিলো। আজকে যে যতটা লুণ্ঠন, দুর্নীতি এবং দমন পীড়ন দেখি, তা আরো বেড়ে যেতো যদি আমরা এখন যতটুকু প্রতিবাদ প্রতিরোধ দেখছি তাও না থাকতো। ফলে সরকার আসলে যা খুশি তাই সবসময় করতে পারে না। তাকে জনমতে চাপে রতে হয়। এরকম কাজ যারা করেন, বিশেষত শ্রমিক অঞ্চলে, সেটা নিঃসন্দেহে খুবই কঠিন কাজ। আর্থিক অনটন মোকাবেলা করা এবং একইসাথে সরকারি গুণ্ডাতন্ত্র ও পুলিশ গোয়েন্দা বাহিনীর চাপে থেকেও যারা কাজ করে যান তাঁদের স্মরণ করা, তাাঁদের সামনে নিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি সে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে ৬০ বা ৭০ এর দশকে যে সমস্ত শিল্পকারখানা হয়েছে সেখানে কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের জন্য আবাসন, শ্রমিক কলোনী, হাসাপাতাল, স্কুল ইত্যাদি তৈরি করা হয়েছে। অথচ আজ আমরা শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বাাঁচার মতো মজুরিটাই চাইতে পারছি না। দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছে। শ্রমিকরা এখন কৃতদাসের জীবন যাপন করছে। রূপগঞ্জের জুস কারখানার পুড়ে মারা যাওয়া শ্রমিকরা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তিনি আরো বলেন, ৮০-র দশকের পর থেকে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি। নারী শ্রমিকদের ওপর শোষণ ও নির্যাতন আরএকটি নতুন মাত্রা পায়- সেটা হলো যৌন হয়রানি। এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ শ্রমিকদের ঐকবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হ।বে। আমিনুল ইসলাম শামা এই প্রতিবাদ প্রতিরোধের অন্যতম দৃষ্টান্ত। এজন্য তাকে বার বার সামনে আনতে হবে।

 

রেহনুমা আহমেদ বলেন, শ্রমিক মাত্রই এখন আর শুধু পুরুষ শ্রমিক নন। নারী শ্রমিকের সংখ্যা গত কয়েক দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। ফলে এই শ্রমিকরা যেমন শোষণ নিপীড়ন এবং স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন একইসাথে তাদেরকে লড়াই করতে হবে পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও। পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে যে মাত্রাতেই হোক এ শুরু হয়েছে এবং শামা ছিলেন এ লড়াইয়ের অগ্রসেনাদের একজন। ফলে এ লড়াই আরো যতবেশি বিস্তৃত হবে শামার প্রসঙ্গ আরো জোরের সাথে শ্রমিক আন্দোলনে উচ্চারিত হবে।

 

অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই করোনাকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতগ্রস্থ হয়েছেন এদেশের মেহনতি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের আয় কমেছে, কাজ হারিছেন, এবং নতুন করে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। অন্যদিকে এদেশের মালিক ও লুটেরা পুঁজিপতিরা জনগণের পয়সায় আরো বেশি প্রণদোনা পেয়েছে, মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে আরো বেশি ব্যবসা করেছেন। এই পরিস্থির বদল করতে হলে মানুষের সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। আমিনুল ইসলাম শামা সেই সংগ্রাম গড়ে তোলার সংগঠক ছিলেন। ফলে শামার কাজ ও চিন্তা বেঁচে থাকবে মানুষের সংগ্রামের ভেতরে। 

শিশুদের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

 

গত ১৩ আগস্ট ২০২১, শুক্রবার আশুলিয়ায় শিশুদের চিত্রাঙ্কনের আয়োজন করা হয়। গতকাল আশুলিয়ার ভাদাইল গ্রামে এ শিশুদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, আমিনুল ইসলাম শামার মা আম্বিয়া খাতুন, আশুলিয়া শাখার সভাপ্রধান বাবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জিয়াদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

আমাদের পেজ