1. km.mintu.savar@gmail.com : admin :
  2. editor@biplobiderbarta.com : editor :
শিরোনাম:
দেশে করোনায় মৃত্যু বাড়ল, ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯০১ জন। দেশে আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের চেয়ে আবার এগিয়ে বাংলাদেশ প্রণোদনা ঋণ ৩৬ কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা চায় বিজিএমইএ পোশাক খাতের ১৬ শতাংশ শ্রমিকের কম মজুরি পাওয়ার শঙ্কায় হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মালিকসহ দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবি শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী ২১ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দশ দফা দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন শক্তি ফাউন্ডেশনের উদ্দ্যোগে পাবনা- কাশিনাথপুরে করোনা সচেতনতায়  মাস্ক বিতরণ: হাসেম ফুড কারখানায় আরও একটি খুলিসহ কঙ্কাল ও হাড় উদ্ধার গার্মেন্ট শ্রমিকদের সুরক্ষায় ৫০ ইউনিয়নের যৌথ বিবৃতি

মহান মে দিবসের অঙ্গীকার শ্রমিকদের ১০০% মজুরি ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগ্রাম জোরদার করতে হবে।

মোঃ রাকিবুল হাসান
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ৪৮০ বার পড়া হয়েছে

২০০৬ সালের ১লা মে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক  কমিটির উদ্যোগে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর বালুর মাঠে মে দিবসের শ্রমিক সমাবেশ ও রেলি কর্মসূচী পালন হয়। সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের তখনকার সভাপতি ইদ্রীস আলী, সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমীন , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

২০০৬ সালের ১লা মে শ্রমিক সমাবেশ শ্রমিকদের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ণ ছিল, কারন  গার্মেন্ট শ্রমিকদের নুন্যতম যে অধিকার ছিল না, নিম্নতম মজুরি ছিল ৭৩০ টাকা থেকে ৯৩০ টাকা। কারখানায় শ্রমিকদের অবানবিক নির্যাতন করা হতো। শ্রমিকদের আইডি কার্ড, নিয়োগ পত্র দেওয়া হতো না। কোন শ্রমিককে চাকুরী চ্যুত করা হইলে তাকে কোন পাওনা দেওয়া হতোনা। মোট কথায় শ্রমিকদের কোন অধিকার ছিলানা।

সমাবেশে অনেকেই বক্তব্য দিয়েছিলেন তার মধ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ স্যার যে বক্তব্য দিয়ে ছিলেন সমাবেশে হাজার হাজার শ্রমিক খুব মনোযোগ দিয়ে শুনে ছিলেন এবং সেই দিন আশুলিয়ার শ্রমিকরা প্রতিজ্ঞা করে ছিল তারা দাবী আদায় না করে ঘরে ফিরবে না।

শ্রমিকরা ঠিকি দাবী আদায় করেই ঘরে ফিরেছে।গার্মেন্ট শ্রমিকদের যে মজুরি ১৯৯৩ সাল ৯৩০ টাকা করা হয়েছিল ২০০৬ সালের মে মাসের আন্দোলনে কারণে ১৬৬২ টাকা ঘোষণা করে ছিল সরকার।

তারপর ২০১০ সালে, ২০১৩ সালে, ২০১৬ সালে, ২০১৯ সালে শ্রমিকরা ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বর্তমান এখন একজন শ্রমিকের নিম্নতম মজুরী বেসিক ৪১০০ টাকা, বাড়ী ভাড়া ২০৫০ টাকা, খাদ্য-যাতায়াত-চিকিৎসা ভাতা ১৮৫০ টাকা। সর্বমোট ৮০০০ টাকা।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে দেশে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর ২৭ মার্চ থেকে কিছু গার্মেন্ট বন্ধ থাকলেও ৬ এপ্রিল থেকে ২৫ এপ্রিল ৯০ ভাগ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ ছিল। এই সময়ের মধ্য গার্মেন্ট কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক ছাঁটায় করা হয়েছে। কারখানা গুলোতে ১২ এবং ১৬ ধারা দিয়ে বন্ধ কালীন সময়ে শ্রমিকদের মজুরীর অনিশ্চয়তা দেখে দিয়েছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে সব কিছু লকডাউন, কোথাও কোন গণজমায়েত হতে দেওয়া হচ্ছেনা, হোটেল, মার্কেট সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অথচ সব থেকে বেশী মানুষ এক সাথে কাজ করে গার্মেন্ট কারখানায়, এখানে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা সব থেকে বেশী অথচ স্বাস্থ্য বিধি না মেনেই সকল শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে আছে, ইতিমধ্যে কিছু কারখানায় শ্রমিকদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

শ্রমিকরা দাবী জানিয়ে আসছে, ১০০% স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশিত না করে কারখানা চালু করা যাবে না। করোনা ভাইরাসের কারণে কোন কারখানা লে-অফ করা যাবে না, এই সময়ে কোন শ্রমিক ছাঁটায় করা যাবেনা। অথচ আমরা দেখলাম ২৯ এপ্রিল শ্রম মন্ত্রালয় থেকে জানানো হলো, ১০০% স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশিত না করে কারখানা চালু করা যাবেনা, করোনা ভাইরাসের কারণে কোন কারখানা লে-অফ করা যাবে না, এই সময়ে কোন শ্রমিক ছাঁটায় করা যাবেনা এবং যেসব শ্রমিক গ্রামে আছে তাদের ঢাকা আসা লাগবে না এবং তাদের বেতন বাড়িয়ে পৌছে দিবে। যারা নিয়মিত কাজ করেছে তারা ১০০% বেতন পাবেন এবং যাতা ছুটিতে আছে তারা ৬০% বেতন পাবেন।একজন শ্রমিকের মোট মজুরি যদি ৮০০০ টাকা হয় তাহলে সে পাবে ৪৮০০ টাকা।

গার্মেন্ট মালিকরা ৪০ বছর যাবত ব্যবসা করছেন, তারা গার্মেন্ট ব্যবসা করে কোটি কোটি আয় করেছেন অথচ শ্রমিকদের ১ মাস কাজ না থাকলে শ্রমিকদের বেতন পারেন না। গত মার্চ মাসে গার্মেন্ট মালিকরা কান্না কাটি করে বলেছিলেন তাদের অডার সব বাতিল হয়ে যাচ্ছে আর এখন বলছেন গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ রাখলে অডার সব বাতিল হয়ে যাবে। তার মানে মার্চ মাসে গার্মেন্ট মালিকরা যা বলছিলেন তা সঠিক না। সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা নেওয়ার জন্য তারা মায়া কান্না করছিলেন। এখন যেহেতু প্রণোদনা পেয়ে গেছেন তাই তাদের কারখানা চালু করতেই হবে এতে শ্রমিকদের যাইই হোক।

আজ মহান মে দিবসে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটি’র উদ্যোগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও গার্মেন্ট, রিক্সা-ভ্যান, নির্মান ও দিন মজুরদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।

আজ ১লা মে শুক্রবার, সকাল ১০ টায়, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটি’র কার্যলয়ে ১৭০ জন গার্মেন্ট, রিক্সা-ভ্যান, নির্মান ও দিন মজুর শ্রমিকদের মাঝে চাউল, আলু, তেল, পিয়াজ, মুড়ি, গুড়, ডিম, ছুলা, সাবান, খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে।

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র সাভার-আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটিকে মহান মে দিবসে শ্রমিকদের ত্রান সামগ্রী দেওয়ার সহযোগিতা করেছেন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটি ১১১ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী, ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ৪৬ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র কেন্দ্রীয় কমিটি ৫,৫০০ টাকা এবং ব্যাক্তি গত উদ্যোগ।

করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে লকডাউন চলছে। লকডাউনের মাঝে দেশের গার্মেন্ট কারখানা চালু আছে এবং আজকের মে দিবসেও সাভারে কয়েকটি গার্মেন্ট কারখানা খোলা । অথচ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মে দিবদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও ত্রান বিতরণ কর্মু সূচিতে পুলিশের বাঁধার নিন্দা জানাচ্ছি।

লেখকঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

আমাদের পেজ