1. km.mintu.savar@gmail.com : admin :
  2. editor@biplobiderbarta.com : editor :
শিরোনাম:
লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং ও তার স্ত্রী। http://www.biplobiderbarta.com/ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উদ্যোগে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষে কৃষদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ ।। (biplobiderbarta.com) পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে ওয়াদা ভঙ্গ করার ভয়াবহ পরিণাম !! প্রয়াসের উদ্যোগে সাঁথিয়ার কাশিনাথপুরে করোনা ভাইরাস বিষয়ে চিকিৎসা পরামর্শ ও ভলেন্টারি সেবা চালু । মোট আক্রান্ত হলেন ৬৫,৭৬৯ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৮৮৮ জনের। দেশের ১৩ জেলা আংশিক এবং ৫০ জেলা সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষনার প্রতিবাদে গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন ট্রাম্পের নির্দেশে পাঠানো সেনা তাড়ালেন মেয়র মুরিয়েল বোসার যেভাবে শিশুদের স্কুলে ফেরাল ডেনমার্ক রাজধানীর দুই এলাকা দিয়ে কাল শুরু হচ্ছে জোলা ভিত্তিক লকডাউনের কাজ

ধর্ষণ বাড়ছেই চলতি বছরের প্রথম মাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে ২১১ জন নারী ও শিশু, মূল শিকার কিশোরীরা

Km Mintu
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২১৩ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের প্রথম মাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে ২১১ জন নারী ও শিশু ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হয়েছে, যা আগের বছরের প্রথম মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। মূলত কিশোরীরাই ধর্ষণের শিকার হয়। তবে ধর্ষণের শিকার সবাই ওসিসিতে আসে না। পত্রিকা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা আরও বেশি।

গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ধর্ষণের শিকার ১০ নারী ও শিশুকে চিকিৎসাধীন পাওয়া যায়। যাদের ৯ জনের বয়সই ১০ থেকে ১৯–এর মধ্যে। এদের মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে সরকারের মাল্টিসেক্টরাল কর্মসূচির আওতায় ওসিসি পরিচালিত হয়। ওসিসির অধীনে দেশের বড় শহরের ১১টি হাসপাতালে শারীরিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা (মূলত ধর্ষণ) এবং আগুন ও অ্যাসিড–সন্ত্রাসের শিকার নারী ও মেয়েশিশুকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। ছেলেশিশুর বয়স ১০ বছরের নিচে হলে তারা সেবা পায়।

এ কর্মসূচির পরিচালক আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, যৌন সহিংসতা বলতে ধর্ষণকেই বোঝানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ওসিসিতে সেবা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হলেই কেবল এখানে ভর্তি করা হয়।

বেসরকারি হিসাবেও বছর বছর ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। বছরের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২০১৯ সালে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মাসওয়ারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর মোট ১ হাজার ৪১৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা ছিল ৩২৭টি। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬ নারী ও মেয়েশিশুকে।

৯টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র এমন প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রায় তিন দশক ধরে মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করছেন আসকের উপপরিচালক নীনা গোস্বামী। ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণ ঠেকাতে দ্রুত বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান করার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। এ জন্য সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি।

ধর্ষণের শিকার সবাই ওসিসিতে আসে না প্রতিবাদ অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ

এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী এসেছে ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে। এই সংখ্যা ১১৫। এদের ৭৪ জন ভর্তি হয়েছে জানুয়ারিতে। তাদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী ৪৬ জন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৫০–এর নিচে। দেশের অন্য ওসিসিগুলোতেও ধর্ষণের শিকার হয়ে সেবা নেওয়ার একই প্রবণতা দেখা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল ওসিসির সমন্বয়ক বিলকিস বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে কিশোরীরাই মূলত ওসিসিতে আসছে। বেশির ভাগই পরিচিত, নিকট স্বজন এবং প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ধামরাই, সাভার, গাজীপুর এলাকা থেকে ভুক্তভোগী বেশি আসে বলে জানান তিনি।

মাল্টিসেক্টরাল কর্মসূচির পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও অভিযোগ আসছে, মানুষের মধ্যে বিচার চাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সাড়ে ৪ হাজার ঘটনায় ৬০টিতে শাস্তি ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশের ওসিসিতে ২০০১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬০টি ঘটনায় শাস্তি হয়েছে। প্রথম আলো ঢাকা জেলার পাঁচটি নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আসা প্রায় ১৫ বছরের (২০০২-১৬) ধর্ষণসংক্রান্ত পাঁচ হাজারের মতো মামলার পরিস্থিতি অনুসন্ধান করেছে। এতে দেখা গেছে, নিষ্পত্তি হওয়া মামলাগুলোর মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাল্টিসেক্টরাল কর্মসূচির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মামলা চালাতে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। এর ফলে মেয়ের বিয়ে দিতে সমস্যা হয়। প্রভাবশালীদের চাপও মোকাবিলা করতে থাকে। এ ছাড়া সাক্ষীর অভাবে ঘটনা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার মামলার খরচ ও বারবার হাজিরা দেওয়া থেকে রেহাই পেতে ভুক্তভোগীর পরিবার অনেক সময় আপস করে ফেলে।

এদিকে ধর্ষণের অনেক ঘটনায় মামলা হয় না। মামলা হলে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ তৎপর থাকে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে কালক্ষেপণ করে। প্রতিবাদ হলে অবশ্য পুলিশের সক্রিয়তা বেড়ে যায়।

ওসিসির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার মনে করেন, ছয় মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয় না বলেই ধর্ষণ মামলার বিচার পরিস্থিতি এমন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাক্ষী আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। টাকার বিনিময়ে ও প্রভাব খাটিয়ে মামলা আপসের সুযোগ মেলে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ধর্ষণ কমবে না।

প্রতিবাদ কম

৯ ফেব্রুয়ারি রাত একটা থেকে ভোররাত পর্যন্ত বাড্ডার একটি গোডাউনে দুই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। এদের বয়স ১৩ ও ১৪। ওসিসিতে চিকিৎসা শেষে এখন তাদের পরামর্শসেবা দেওয়া হচ্ছে।

এক কিশোরীর স্বজন প্রথম আলোকে জানান, বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলে। তখন রাত হয়ে গেলে রাস্তা দেখানোর কথা বলে দুই কিশোরীকে বাড্ডার ডিআইটি রোডের গোডাউনে নিয়ে গণধর্ষণ করে তিন লোক। তিন আসামির মধ্যে পুলিশ ইমন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত ৫ জানুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন। ধর্ষণের শিকার ওই ছা্ত্রী ওসিসিতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। ঘটনার পর ধর্ষকের বিচারের দাবিতে উত্তাল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। প্রতিবাদকারীরা আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার জন্য দোষারোপ করেন পুলিশ প্রশাসনের অবহেলা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে।

এটাই ছিল ধর্ষণ নিয়ে এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিবাদের ঘটনা। কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত হলে কিংবা ঘটনার নৃশংসতা ভয়াবহ হলে কেবল প্রতিবাদের ঘটনা বড়ভাবে দেখা যায়। এর বাইরে আর কোনো ঘটনায় বড় প্রতিবাদ দেখা যায়নি।

আসকের উপপরিচালক ও আইনজীবী নীনা গোস্বামী বলেন, আগে কখনো এত ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে দেখা যায়নি। একদিকে বছর বছর ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলছে, অন্যদিকে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ-প্রতিবাদ কমে যাচ্ছে। ঘটনাগুলো গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের।

একই ধরনের মন্তব্য করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শিশু সুরক্ষা বিভাগের সমন্বয়কারী রাফেজা শাহীন। তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিবাদ অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। পাড়া বা এলাকা থেকেও মেয়েরা এখন আগের মতো সুরক্ষা পাচ্ছে না। তবে ব্যক্তিপর্যায়ে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটছে।

(১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ প্রথম আলো প্রকাশিত সংবাদ থেকে নেওয়া।)

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর